অসম বিধানসভায় উত্তাল পরিস্থিতি, ৬ জনজাতির জনজাতি স্বীকৃতির দাবিতে ওয়াক

অসম বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সোমবার এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজ্যের ছয়টি জনজাতিকে তফসিলি উপজাতি বা ‘শিডিউল ট্রাইব’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সরব হয়ে বিরোধী দলের বিধায়করা সভাকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোর লক্ষ্য করা গেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বর্তমান সরকার এই ছয়টি জনগোষ্ঠীর দাবির প্রতি যথেষ্ট উদাসীন এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বিধানসভার কার্যক্রম চলাকালীন যখন বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা রাজ্যের ছয়টি সম্প্রদায়ের জনজাতি স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, এই ছয়টি গোষ্ঠী বহু বছর ধরে তাদের সাংবিধানিক অধিকারের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এই বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা মূলত মুলতবি প্রস্তাব আনার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্পিকারের তরফে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ বিরোধী দলের বিধায়করা তুমুল হট্টগোল শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য, অসমের মোড়ক, কোচ-রাজবংশী, চুতীয়া, মতক, মরান এবং তাই-আহোম—এই ছয়টি জনজাতিকে দীর্ঘদিন ধরেই তফসিলি উপজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে। এই দাবি পূরণ হলে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণ পাবেন, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের সময় এই ইস্যুটি বারবার রাজনৈতিক ইশতেহারে উঠে আসলেও, কার্যকরী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষজন।

বিরোধী দলের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সরকার এই ছয়টি গোষ্ঠীর মানুষের আবেগের সঙ্গে খেলা করছে। তাদের মতে, যখন কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের একই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় রয়েছে, তখন এই বিষয়টির সমাধান করা অনেক সহজ হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। ওয়াকআউটের সময় বিরোধীরা বিধানসভার ভেতরে স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই ছয়টি গোষ্ঠীকে জনজাতি তালিকাভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের উচিত কেন্দ্রের কাছে জোরালো সুপারিশ পাঠানো।

অন্যদিকে, এই ইস্যুতে সরকারি পক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি। বিধানসভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এই বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া যার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিরোধী দল এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, সমীক্ষার দোহাই দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যু নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জনজাতি স্বীকৃতির দাবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর সমর্থন। ফলে বিধানসভার এই ওয়াকআউট শুধুমাত্র একটি সংসদীয় প্রতিবাদ নয়, বরং এটি রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিতবাহী বলেও মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ছয়টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কতগুলো পরিবার বা মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তার জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কী, সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বা সরকারি তথ্যাদি বর্তমানে উপলব্ধ নয়। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে এই ইস্যুটির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।