পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার রাজ্যের পরিবেশ ও সবুজায়ন কর্মসূচি নিয়ে এক নতুন প্রস্তাব পেশ করলেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বৃক্ষরোপণ অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি দাবি জানিয়েছেন যে, বাংলায় আগামী দিনে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হোক। সোমবার এই ইস্যুতে সরব হয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক সদিচ্ছা থাকলে এই লক্ষ্য পূরণ করা অসম্ভব নয়। বিশেষ করে নারিকেল ও সুপারি জাতীয় গাছের চারা রোপণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই ধরনের গাছ কেবল পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করবে না, বরং রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজ্যের জেলাগুলিতে যেভাবে কংক্রিটের জঙ্গল বাড়ছে, তাতে সবুজায়ন এখন সময়ের দাবি। বিরোধী দলনেতা উল্লেখ করেছেন, উত্তরপ্রদেশে যেভাবে প্রশাসনিক উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক চারা গাছ রোপণ করা হয়েছে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, সেই মডেলই পশ্চিমবঙ্গে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেছেন, যদি উত্তরপ্রদেশ এটি করতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ কেন পারবে না? তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই উদ্যোগ সফল হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
নারিকেল গাছ রোপণের পেছনে তাঁর বিশেষ যুক্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, এই গাছগুলি দীর্ঘস্থায়ী এবং এগুলি থেকে নিয়মিত আয় করা সম্ভব। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও নারিকেল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি এই কর্মসূচিকে কেবল একটি সরকারি প্রকল্প হিসেবে না দেখে একে সামাজিক আন্দোলনের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষপাতী। স্থানীয় ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানে শামিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, পরিবেশ রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রশ্নে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বৃক্ষরোপণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন বিরোধী নেতার পক্ষ থেকে এমন গঠনমূলক প্রস্তাব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে, রাজ্যের শাসক দল এই প্রস্তাবকে কীভাবে দেখছে বা সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বৃক্ষরোপণ কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং এটি রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রস্তাবটি নিছক রাজনৈতিক বাদানুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোবে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। গ্রীষ্মের দীর্ঘস্থায়ী দাপট এবং বৃষ্টির অনিয়ম পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১০ কোটি গাছ রোপণের প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি সত্যিই রাজ্য সরকার এবং বিরোধী পক্ষ একত্রে এই মহৎ উদ্যোগে সামিল হয়, তবে তা রাজ্যের পরিবেশগত পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে বিষয়টি আনবেন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করবেন। নারিকেল চারা রোপণকে অর্থনৈতিক সাবলম্বনের সঙ্গে যুক্ত করে যে মডেল তিনি উপস্থাপন করেছেন, তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সাধারণত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিগুলোতে চারা রোপণ করা হলেও তার বেঁচে থাকার হার বা সার্ভাইভাল রেট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী দলনেতা এই বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কেবল চারা রোপণ করলেই হবে না, বরং আগামী কয়েক বছর সেই গাছগুলোর নিয়মিত দেখাশোনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে হবে। প্রতিটি গাছের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থাকে জবাবদিহি করতে হবে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সবুজায়ন সম্ভব। তিনি বারংবার জোর দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনঅংশগ্রহণই এই লক্ষ্যের মূল চাবিকাঠি। পরিবেশবিদরা এই প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ের অভাব যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন একাংশ। তবুও, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার নিরিখে এই প্রস্তাবটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








